আজকের পোস্টে আমাদের আলোচনার বিষয়বস্তু হলো তরমুজের উপকারিতা ও অপকারিতা কোনগুলি। তরমুজ এমন একটি ফল যেটি অনেক রসালো হয়ে থাকে যার ৮০ ভাগ পানি। আসুন জেনে নিই তরমুজ ফলের উপাকারিতা ও অপকারিতা কোনগুলি।
আমরা অনেকেই এখনো জানিনা তরমুজ ফলের উপকারিতা ও অপকারিতা কোনগুলি। তরমুজ ফলের সাস্থ উপকারিতা অনেক বেশি এর পাশাপাশি তরমুজ আপনার শরীরের তাপ নিয়ন্ত্রণ করতে অনন্য ভুমিকা পালন করে। গরমের সময় যখন আমাদের শরীরে প্রচুর হিট অনুভুতি হয় তখন তরমুজ খেলে শরীর শীতল হয়ে যায়। এই তরমুজে প্রচুর পরিমানে এন্টি-অক্সিডেন্টের সাথে বিটা ক্যারোটিন পাওয়া যায়।
এই তরমুজে প্রচুর পরিমানে খনিজ পদার্থ যেমন ক্যালসিয়াম, পটাসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস পাওয়া যাং যার ফলে শরীরের রোগ প্রতিরোধে ক্ষমদা অনেক বেড়ে যায়। বিভিন্ন রোগ জীবাণুর সাথে শরীরকে লড়াই করার শক্তি জোগায় নিয়মিত তরমুজ খেলে। তাই আসুন জেনে নিই তরমুজের উপকারিতা ও অপকারিতা কোনগুলি।
তরমুজের উপকারিতা
অত্যান্ত সুমিষ্ট এক ফলের নাম তরমুজ এটি অত্যান্ত রসালো যার ৮০-৯০ ভাগ পানি। এই তরমুজের উপকারিতা অনেক। আসুন জেনে নিই তরমুজের উপকারিতা কোগুলি
মাথা ব্যাথা উপশম করতে তরমুজ | তরমুজের উপকারিতা ও অপকারিতা
গ্রীষ্মকালে প্রচণ্ড গরমে প্রায়ই মানুষের মাথাব্যথা সমস্যা দেখা দেয়। আর এই মাথাব্যথার ওষুধ হিসেবে আপনি তরমুজ খেতে পারেন। কারন তরমুজ যেহেতু শরীরকে শীতল করতে সহায়তা করা তাই প্রচন্ড গরমের ফলে মাথা ব্যাথা করলে তরমুজ খেলে ভালো হয়ে যাবে। তাই প্রচন্ড গরমের কারনে যদি আপনার মাথা ব্যাথা করে তাহলে আপনি তরমুজ খেতে পারেন এতে তরমুজের উপকারিতা উপলব্ধি করতে পারবেন।
শরীরে পেশীর ব্যাথা দূর করুন তরমুজে | তরমুজের উপকারিতা ও অপকারিতা
অনেক সময় বেশি ব্যায়াম করার ফলে আমাদের মাংশ পেশীতে ব্যাথা অনুভুতি হয়। এই সমস্যাটি দেখা দিলে আপনি তরমুজ খাবেন বেশি বেশি তাহলে আপনার পেশীর ব্যাথা অনেক কমে যাবে। বিজ্ঞানিরা এক গবেষণায় দেখেছেন তরমুজ খেলে পেশির ব্যাথা কমে যাই।
উচ্চ রক্তচাপের রূগিদের জন্য তরমুজ | তরমুজের উপকারিতা ও অপকারিতা
আপনার যদি উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা থাকে তাহলে ভালো করেই জানেন উচ্চ রক্তচাপে শরীরে সোডিয়াম এবং পটাসিয়ামের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে হয়। আপরা তরমুজে ম্যাগনেসিয়াম এবং পটাসিয়ামের সাথে অ্যামিনো এসিড পেয়ে থাকি যেটি আমাদের শরীরের রক্তকণিকা সুস্থ রাখে।
ওজন কমাতে তরমুজের রস বা শরবত খান | তরমুজের উপকারিতা ও অপকারিতা
আপনার ওজন কি প্রয়োজনের থেকে অনেক বেশি বেড়ে গেছে? তাহলে আপনি তরমুজের শরবত নিয়মিত খাবেন। তরমুজে প্রচুর পরিমানে ডিহাড্রেশন থাকে যেটি আমাদের ক্ষুধাকে নিয়ন্ত্রন করে। যার ফলে অতিরিক্ত ওজন কমানে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে তরমুজ।
এজন্য যারা ওজন কমাতে চান সবাই নিজেদের ডায়েটকন্ট্রোল করতে যেই রুটিন তৈরি করবেন সেখানে অবশ্যই তরমুজ রাখবেন। তরমুজে কোনো ধরনের ফ্যাট থাকেনা শুধু তাই না তরমুজ খেলে কোলেস্টোরেলের কোনো সমস্যা হয়না। সিট্রুলাইন নামের এক বিশেষ উপাদান তরমুজ থেকে পাওয়া যায় যার কারনে ওজন কমাতে সাহায্য করে। তাই আপনি যদি ওজন কমাতে চান তাহলে বেশি বেশি তরমুজ খেতে পারেন।
শরীরে সজীবতা ফিরিয়ে আনে এই তরমুজ | তরমুজের উপকারিতা ও অপকারিতা
অনেক সময় একটি কাজ করতে করতে আমরা অনেক শক্তি ক্ষয় করে ফেলি এবং কাজ করতে পারিনা। এই সময় আপনি যদি তরমুজ খান তাহলে পুনরায় কাজ করার শক্তি উৎপাদন হবে আপনার শরীরে। কারন তরমুজে থাকা পুষ্টিগুন আপনার শরীরে শক্তির স্থর গঠন করে দেয় যকর ফলে অনেকক্ষন কাজ করার শক্তি পাবেন।
তরমুজে রয়েছে প্রচুর পরিমানে বিটা ক্যারোটিন, ভিটামিন এবং পটাসিয়াম যা আনার শরীরের শক্তির জোগান দেয় এবং শক্তির মাত্রা কমতে দেয়না। নিয়মিত ব্যায়াম করার পূর্বে তরমুজের জুস খেতে পারেন এতে আপনার শরীর ডিহাড্রেশন থেকে মুক্তি পাবে।
মানসিক সাস্থের জন্য তরমুজের উপাকারিতা | তরমুজের উপকারিতা ও অপকারিতা
মানসিক ভাবে সুস্থ থাকতে তরমুজ আপনার জন্য সেরা টোটকা হতে পারে। বিভিন্ন কারনে আমরা অনেক সময় মাথাব্যথা, টান, হতাশা এবং উদ্বেগের মতো বড় সমস্যার সম্মুখীন হয়ে থাকি। এই সমস্যাগুলি থেকে মুক্তি পেতে আমাদেরকে বেশি বেশি তরমুজ খেতে হবে।
তরমুজ আমাদের মনকে শান্ত করে কারন এতে রয়েছে ভিটামিন সি যা মানসিক সাস্থের জন্য খুবই উপকারি। তাই আপনি আপনার মানুসিক শান্তির জন্য নিয়মিত তরমুজ খেতে পারেন এটি আপনার শরীর ও মন দুইটাই ভালো রাখে।
হার্ট ভালো রাখতে তরমুজ খেতে হবে | তরমুজের উপকারিতা ও অপকারিতা
নিয়মিত তরমুজ খেলে হার্টের বিভিন্ন সমস্যা থেকে সুস্থ থাকা যায়। হার্ট জনিত আমাদের অনেক সমস্যা দেখা দিতে পারে এগুলি দূরে রাখতে নিয়মিত তরমুজ খান। শরীরে কোলেস্টোরেল এর মাত্রা বেড়ে গেলে হার্টের সমস্যা দেখা দেয় আর তরমুজে থাকা পুষ্টিগুন কোলেস্টোরেল নিয়ন্ত্রণ করে। এইজন্য হার্ট সুস্থ রাখতে নিয়মিত তরমুজ খেতে হবে।
তরমুজের বীজের উপাকারিতা | তরমুজের উপকারিতা ও অপকারিতা
আপনি যখন তরমুজ খাবেন তখন ভুল করেও এর বীজ ফেলে দেয়া যাবেনা কারন তরমুজের বীজের খোশা ছাড়িয়ে সাদা অংশটি খেলে শরীরে শক্তি বৃদ্ধি হয় এবং ব্যাথার জন্য এটি অনেক উপকারি। এছাড়াও তরমুজের বিচি পিশে মুখে দিলে মুখের উজ্জ্বলতা ভাব ধরে রাখে।
তরমুজ খেলে হাঁপানি থেকে বাঁচা যাই | তরমুজের উপকারিতা ও অপকারিতা
তরমুজে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন সি আছে যার ফলে অ্যাজমা ও শ্বাসকষ্টের মতো ভয়ংকর রোগ প্রতিরোধ করে। তাই আপনি যদি একজন হাঁপানি রুগি হয়ে থাকেন তাহলে নিয়মিত তরমুজ খেলে হাঁপানি সমস্যা কমে যাবে।
নিয়মিত তরমুজ খেয়ে কিডনি সমস্যা দূর করুন | তরমুজের উপকারিতা ও অপকারিতা
পানির অভাবে অনেক সময় কিডনির বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেই। আর তরমুজে ৮০-৯০ ভাগ রয়েছে পানি এবং গ্লুকোজ যার ফলে কিডনি ভালো রাখতে তরমুজের উপকারিতা অনেক বেশি লক্ষ করা যাই।
তরমুজের অপকারিতা গুলি হলো
উপরে আপনারা জেনে গেছেন তরমুজের উপকারিতার দিকগুলি কোনগুলি। তরমুজ খাওয়ার উপকার যেমন রয়েছে তেমনি অতিরিক্ত তরমুজ খেলে অনেক সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে। আসুন জেনে নিই তরমুজ খাওয়ার ক্ষতিকর বা অপকারিতা কোনগুলি।
- তরমুজ খুব অল্পপরিমাণে খাওয়া অত্যান্ত উপকারি। একজন প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষের জন্য দিতে ২০০ গ্রমাের বেশি তরমুজ খাওয়া উচিৎ নয়।
- যাদের ইতিমধ্যে কিডনির সমস্যা রয়েছে তাদের জন্য তরমুজ খাওয়া ক্ষতিকর।
- আপনি যদি খুব বেশি পরিমানে তরমুজ খকন তাহলে রক্তে সুগারের পরিমান বাড়িয়ে দিতে পারে। এটি ডায়াবেটিস রুগি এবং গর্ভবতী মায়ের জন্য ক্ষতিকর।
- যাদের স্বল্প রক্তচাপ রয়েছে তাদের জন্য বেশি তরমুজ খাওয়া উচিৎ না কারন এতে থাকা পটাশিয়াম রক্তচাপ কমিয়ে দেই।
- তরমুজে প্রচুর পরিমানে লাইকোপিন রয়েছে যার কারনে অতিরিক্ত গ্রহনে ডায়রিয়া, বদহজম, গ্যাস এবং বমিভাব হতে পারে তাই তরমুজ পরিমিত পরিমানে গ্রহন করুন।
- তরমুজ খাওয়ার পরে ৩০ মিনিট থেকে ১ ঘন্টা পানি খাওয়া উচিৎ নয়।
শেষকথা | তরমুজের উপকারিতা ও অপকারিতা
তরমুজ অত্যান্ত সুমিষ্ট একটি ফল তা আমরা সকলেই জানি। আশা করি সবাই তরমুজের উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে আমাদের এই পোস্টে জানতে পেছেন।

