আজকের পোস্টের বিষয়বস্তু আমের উপকারিতা কোনগুলি। আম খেতে আমরা সবাই পছন্দ করি কারন এটি অনেক সুস্বাদু হয়ে থাকে। আসুন জেনে নিই আমের উপকারিতা কোনগুলি।
আম হল সুমিষ্ট এবং রসালো একটি ফল। আমের উপাকারিতা হলো এতে প্রচুর পরিমাণে রয়েছে ভিটামিন, ফাইবার এবং খনিজ রয়েছে উপাদান। এই আম ফলের উপকারিতা অনেক বেশি
আম কি?
আম হল গ্রীষ্মকালীন একটি খুবই সুস্বাদু একটি ফল। জাত ভেদে আমের স্বাদ টক, মিস্টি হয়ে থাকে তবে পাকলে সব আপ প্রচুর মিস্টি হয়। আমের রং লাল বা সবুজ অথবা হলুদ থেকে সবুজ হয়ে থাকে। আমের ভেতর নরম হয়ে থাকে এবং এর মাঝখানে একটি আটি থাকে যেটি আমের বীজ এটি খাওয়া জায়না। আমের আদি নিবাস হলো দক্ষিণ এশিয়া, কিন্তু এই আম বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো এবং ক্যারিবিয়ান সহ বিভিন্ন দেশে দেখা যায়।
বাংলাদেশের রাজশাহী অঞ্চলে প্রচুর আমের বাগান রয়েছে এবং এখান থেকে দেশ ও দেশের বাইরে আপ পাঠানো যায়।
আমের পুষ্টিগুন
আমের পুস্টিগুন হলো এতে প্রচুর পরিমানে পাওয়া যায় ক্যালরি, প্রোটিন, ফ্যাট, কার্বোহাইড্রেট, ফাইবার, পটাসিয়াম এবং ভিটামিন সি যা আমাদের শরীরের শক্তিক্ষমতা বাড়াতে এবং আরামদায়ক ঘুমে সহায়তা করে।
1. আমে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আপনার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়। যার জন্য নিয়মিত আম খেলে আপনার অসুখ হওয়ার সম্ভাবনা অনেক কমে যাবে। এছাড়াও আমে রয়েছে গ্যালোটানিন এবং ম্যাঙ্গিফেরিন যার ফলে আপনি প্রতিদিনের জীবনযাপনের সৃষ্ট স্ট্রেস মোকাবেলা করতে পারেন। নিয়মিত আম খেলে স্ট্রেস কমে যায়। এবং আম আপনার স্থূলতা প্রতিরোধ করতে বিশেষ ভুমিকা পালন করে।
2. হজমে সাহায্য করতে পারে
নিয়মিত আম খেলে আপনার কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়ে যায়। এছাড়া আম গাছের পাতার রস খেলে ডায়রিয়া রুগিদের ডায়রিয়া ভালো হয়ে যায় এবং ডায়রিয়া প্রতিরোধে আম এবং আমের পাতা উভয় উপকারি। আর আমে রয়েছে প্রচুর পরিমানে ফাইবার যেটি আমাদের হজম শক্তি বৃদ্ধি করে। আমাদের মধ্যে যারা কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যায় ভুগছেন তারা নিয়মিত আম খান তাহলে আপনারা এই সমস্যা থেকে মুক্তি লাভ করতে পারবেন।
3. ত্বক ও চুল ভালো রাখতে আম খেতে হবে।
আম ফলের উপকারিতা হল আমে ভিটামিন এ এবং ভিটামিন সি রয়েছে যা আপনার ত্বক এবং চুল ভালো রাখে। এতে থাকা ভিটামিন সি এবং প্রটিন যা ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে সাহায্য করে এবং চুলকে মোটা ও দৃড় রাখে। আমরা সবাই জানি ভিটামিন সি সবচেয়ে শক্তিশালী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট যার ফলে আম খেলে শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেক গুনে বেড়ে যায়।
এছাড়া আপনা শরীরের কোনো স্থানে যদি ক্ষত হয় তাহলে আম খেলে দ্রুত ক্ষত ভালো হয় এতে থাকা ভিটামিন সি এর কারনে। এছাড়া আম শরীরের ত্বক এবং চুলের নতুন কোষ তৈরি করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কারন আমে রয়েৃচে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন এ যার কারনে ত্বক এবং চুলের নতুন কোষ বৃদ্ধিতে কার্যকর।
4. হার্ট ভালো রাখতে নিয়মিত আম খান
নিয়মিত আম খেলে আপনার হার্ট ভালো থাকবে করান আমে রয়েছে ম্যাঙ্গিফেরিন। এটি হার্টের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং আপনার হার্টকে সুস্থ রাখতে সহায়তা করে।
5. চোখ ভালো রাখতে আমের উপকারিতা অনেক
আমে রয়েছে ক্যারোটিনয়েড যা আমাদের চোখকে ভালো রাখতে সাহায্য করে। এছাড়া ভিটামিন এ এর অভাবে চোখের বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেই কিন্তু নিয়মিত আম খেলে ভিটামিন এ এর অভাব পূর্ন হয় এবং আমাদের মহামূল্যবান চোখ সুস্থ থাকে।
সবার জন্য কি আম খাওয়া নিরাপদ?
আম খাওয়া মূলত সব বয়সী সকল মানুষের জন্য খাওয়া নিরাপদ। তবে যাদের অ্যালার্জি সমস্যা রয়েছে তারা আম খাওয়া থেকে বিরত থাকতে পারে। তবে বেশিরভা ক্ষেত্রে আম খাওয়া সম্পুর্ন নিরাপদ।
শেষকথা
আম অত্যান্ত উপকারি একটি ফল এবং এটি গ্রিষ্মকালে পাওয়া যায়। আমের সময় চারিদিক আমের গন্ধে মুখরিত হয়ে যায়। আমের উপকারিতা অনেক বেশি। এই আমের আচার করে অনেকদিন পর্যন্ত খাওয়া যায়।

