আজকের পোস্টে আমরা জানবো, আনারসের উপকারিতা কোনগুলি জেনে নিন। আমরা সবাই জানি আনারস অত্যান্ত রসালো এবং সুস্বাদু একটি ফল। আনারস পুষ্টিগুনে ভরপুর একটি ফল তাই আসুন জেনে নেই আনারসের উপকারিতা কোনগুলি।
আনারসের পুষ্টিগুন
আনারসে প্রচুর আঁশ রয়েছে এই ফল খেলে ক্যালরির অভাব পূরন হয়। এছাড়াও আনারসে রয়েছে প্রচুর পরিমানে ক্যালসিয়াম, ভিটামিন, পটাশিয়াম এবং ফসফরাস থাকে। স্বাস্থ্য সুরক্ষায় আরেকটি কারন হলো এতে কোলেস্টেরল ও চর্বি একদম থাকেনা তাই আনারসের পুষ্টিগুনের তুলনা হয়না।
আনারসের উপাকারিতা
আনারস ফলটি সুমিষ্ট, তৃপ্তিকর এবং রসালো হয়ে থাকে এবং এর পুষ্টিগুনের জন্য সারা বিশ্বব্যাপী এই ফলের ব্যাপক চাহিদা লক্ষ্য করা যায়। এই আনারসে রয়েছে প্রচুর পরিমানে ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, পটাসিয়ামের সাথে ভিটামিন সি, ভিটামিন এ এবং আঁশ ও ক্যালোরি। যার কারনে আনারস আমাদের শরীরে অনেক শক্তির জোগান দেয়। এছাড়াও এর আরেকটি পুষ্টিগুন হল আনারস সম্পুর্ন চর্বিমুক্ত এবং কোলেস্টেরল মুক্ত তাই এটি খেলে সাস্থ ঝুকি নাই।
১/ পুষ্টির অভাব পূরণ করতে আনারসের উপকারিতা: আনারস ফল দেখতে তেমন আকর্ষণীয় না হলেও পুষ্টিগুনে ভরপুর এই ফল। আনারসে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন সি, এ, ফসফরাস, পটাশিয়াম, এবং ক্যালসিয়াম রয়েছে। এসব উপাদান আমাদের শরীরে পুষ্টির অভাব পূরণ করে এবং রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে।
২/ হজমশক্তি বাড়াতে আনারসের উপকারিতা: নিয়মিত আনারস খেলে আমাদের হজমশক্তি বেড়ে যায়। আনারসে একপ্রকার এনজাইম থাকে যাকে ব্রোমেলিন বলা হয় এই উপাদানটি শরীরের হজমশক্তি বাড়িয়ে দিতে সহায়তা করে। তাই আপনার যদি বদহজম বা হজমের কোনো সমস্যা থাকে তাহলে আনারস খান সুস্থতা লাভ করবেন।
৩/ ভাইরাসজনিত ঠান্ডা ও কাশি থেকে মুক্তি পেতে আনারসের উপকারিতা: আনারস খেলে ভাইরাসজনিত ঠান্ডা ও কাশি প্রতিরোধে বিশেষ ভূমিকা পালন করে কারন আনারসে রয়েছে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন সি। শুধু তাইনা জন্ডিস ও জ্বর প্রতিরোধ করতে আনারস গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে। নিয়মিত আনারসের রস খেলে গলাব্যাথা, নাক দিয়ে পানি পড়া, ব্রংকাইটিসের ওষুধ হিসেবে কাজ করে।
৪/ শরীরের ওজন কমাতে আনারসের উপকারিতা: শরীরে ওজন কমাতে সাহায্য করে আনারসে থাকা আঁশ এবং ফাইবার। এছাড়া আনারসে কোনো ফ্যাট থাকেনা তাই নিয়মিত আনারসের জুস পান করলে শরীরের ওজন কমাতে অনেক উপযোগী কাজ করে। এজন্য আপনার শরীরের ওজন কমাতে ওষধ হিসেবে কাজ করে আনারস। এছাড়া আনারস শরীরে রক্ত জমাট বাঁধতে দেয়না এর ফলে শিরা-ধমনির মধ্য দিয়ে রক্ত চলাচল করতে কোনো সমস্যা হয়না।
৫/ দাঁত ও মাড়ির সুরক্ষায় আনারসের উপকারিতা: আনারস নিয়মিত খেলে দাঁতের সাস্থ ভালো থাকে কারন আনারসে প্রচুর পরিমানে ক্যালসিয়াম রয়েছে। এছাড়া আনারস বেশ ভালো ভূমিকা পালন করে মাড়ির সমস্যার সমাধান করতে।
৬/ চোখেে যত্নে আনারসের উপকারিতা: নিয়মিত আনারস খেলে চোখের ম্যাকুলার ডিগ্রেডেশন রোগ হওয়া থেকে বাঁচা যায়। এই রোগের কারনে মানুষ ধীরে ধীরে অন্ধ হয়ে যায়। আমাদের চোখ সুস্থ রাখতে প্রতিদিন আনারস খাওয়া প্রয়োজন কারন আনারসে আছে বেটা ক্যারোটিন যার ফলে এই রোগটি হওয়ার সম্ভাবনা ৩০% পর্যন্ত কমে যায়।
৭/ ত্বকের যত্নে আনারসের উপকারিতা: আনারস আমাদের শক্তির যোগান দেয় কারন এতে আছে প্রচুর পরিমানে ক্যালরি। এছাড়াও ত্বক থেকে ত্বকের শুকনো মরা কোষগুলি দূর করতে কাজ করে আনারসে থাকা প্রোটিন। যার ফলে আমাদের ত্বক কুঁচকে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা পায়। আনারস নিয়মিত খেলে ত্বকের তৈলাক্ত ভাব দূর হয় এবং ব্রণ ভালো করে। তাই ত্বকের সুস্থতার জন্য আনারসকে বোছে নিতে পারেন।
৮/ হাড়ের জন্য আনারসের উপকারিতা: আনারস ফলে প্রচুর পরিমানে ক্যালসিয়াম রয়েছে জার কারনে আপনার হাড় মজবুত করতে বিশেষ ভুমিকা পালন করে। এছাড়া যারা হাড়ের বিভিন্ন সমস্যায় ভুগছেন তাদের জন্য আনারস আশির্বাদ সরূপ।
৯/ ক্রিমি সমস্যায় আনারসের উপকারিতা: দৃর্ঘদিন যাবত কৃমির সমস্যায় ভুগছেন? তাহলে আনারসের রস পান করুন নিয়মডত এতে ক্রিমি সমস্যা থেকে মুক্তি পাবেন। ক্রিমি সমস্যা দূর করতে প্রতিদিন সকালে খাওয়ার আগে আনারস খান।
শেষকথা| আনারসের উপকারিতা
আনারস খুবই রসালো এবং সুস্বাদযুক্ত একটি ফল এটি নিয়মিত খেলে আপনার শরীরে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির সাথে পু্ষ্টিহীনতা সমস্যা দূর করো। তাই সুস্থ থাকতে নিয়মিত আনারস খেতে পারেন।
আপনার শরীরির বহুমুখী সমস্যার সমাধান রয়েছে আনারসে। এমনকি আনারস নিয়মিত খেলে হার্টের সমস্যা থেকে অনেকটা মুক্তি পাওয়া যায়। তবে মনে রাখতে হবে দুধ খাওয়ার এক ঘন্টার মাঝে আনারস খাওয়া যাবেনা এতে পেটের বিভিন্ন সমস্যা দেখা দিতে পারে।

