আজকের পোস্টে আমাদের আলোচনার বিষয়বস্তু হলো মোবাইল আসক্তি কি। মোবাইল আসক্তি বর্তমান সময়ে সবচেয়ে বড় সমস্যা গুলির একটি তাই আসুন জেনে নিই মোবাইল আসক্তি কি।
মোবাইল আসক্তি কি
মোবাইল আসক্তি একটি সাধারণ ব্যাধি নয়, বরং এটি একটি মনের অসুস্থতা যা আমাদের প্রতিদিনের জীবনে কিংবা কাজে দিনকার্যে ব্যবহার করা আমাদের সমস্যার মুখোমুখি করে।
এক্ষেত্রে আমরা একটি সাধারণ দৃষ্টিভঙ্গি পেতে পারি এবং এর কথা বিবেচনা করতে পারি যে আমরা মোবাইল সম্পর্কে যতটা জানি তার মধ্যে আমাদের জন্য কিছু কুফল রয়েছে, যা নিম্নলিখিত হলঃ
১। সময় সর্বদা নিয়ন্ত্রিত থাকতে না পারা। আমরা যখন মোবাইল ব্যবহার করি তখন আমাদের সময় অনেকটা হারিয়ে যায় এবং প্রতিদিন সময়ের প্রতি একটি স্বাভাবিক চাহিদা তাকে নিষ্পত্তি করা যায় না।
২। সম্পর্কবিধি দূর্বল হতে পারে। মোবাইল আসক্তি আমাদের সাথে ক্লোজ সম্পর্ক তৈরি করে তবে প্রতিদিন আমরা মোবাইল দ্বারা আমাদের নিজেদের সাথে সম্পর্ক নষ্ট করে ফেলছি।
৩। সামাজিক জীবনে অস্থিরতা উত্পন্ন করতে পারে। মোবাইল আসক্তি আমাদের সামাজিক জীবন উপস্থাপন করতে নিজেকে ব্যস্ত রাখে এবং সম্পর্ক বিন্যাস এবং বিন্যাস এর সাথে একটি আসক্তিমূলক জীবন উত্পন্ন করতে পারে।
৪। শারীরিক এবং মানসিক স্বাস্থ্য প্রভাবিত হতে পারে। দীর্ঘদিন মোবাইল ব্যবহার করা মানসিক দুর্বলতা এবং উচ্ছ্বাস প্রশ্বাস সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। এর সাথে শারীরিক সমস্যাও হতে পারে যেমন নকল পেটে দুঃখ, মাংশপেশির সমস্যা এবং চকচকে চোখের সমস্যা।
৫। মোবাইল আসক্তি আর্থিক সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। অতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহার আর্থিক ক্ষতির কারণ হতে পারে এবং একজন ব্যবহারকারীর অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নয়নের পথে বাধা উত্পন্ন করতে পারে।
৬। মোবাইল আসক্তি কারও বিনিময় সম্পর্ক প্রভাবিত করতে পারে। সম্পর্কের একটি ব্যক্তি অতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহার করতে পারে যা বিনিময়ে সময় ও মান প্রভাবিত করতে পারে।
৭। মোবাইল আসক্তি পরিবারের সম্পর্কে আশঙ্কা তুলে ধরতে পারে। যখন একজন ব্যক্তি তাদের পরিবার বা প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটাতে না পারে এবং স্বল্পস্বল্প সময় পরিবারের সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা নেই তখন মোবাইল আসক্তি তাদের পরিবার সম্পর্কে আশঙ্কা তুলে ধরতে পারে।
৮। মোবাইল আসক্তি পাঠকদের পাঠ পরিবেশের সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। মোবাইল ব্যবহারের সময় সর্বত্র বিচ্ছিন্নতা এবং অস্থিরতা উপস্থাপন করা যায় যা পাঠকদের পাঠ পরিবেশে ক্ষতি সৃষ্টি করতে পারে।
৯। মোবাইল আসক্তি আপনার কর্মক্ষমতা সংকীর্ণ করে দেয়। কারন আপনি আপনার কাজ বাদ দিয়ে সারাক্ষণ মোবাইলের পেছনে পড়ে থাকেন।
১০। মোবাইল আসক্তি আপনার ঘরের বা অফিসের কর্মকাণ্ডে প্রভাব ফেলতে পারে। মোবাইল ব্যবহার করতে অসহযোগিতা উদ্ধৃত হতে পারে এবং প্রয়োজনীয় কাজ বিলম্ব হতে পারে।
১১। মোবাইল আসক্তি আপনার শারীরিক এবং মানসিক স্বাস্থ্যের উপর প্রভাব ফেলতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে মোবাইল ব্যবহার করা মানসিক অসুস্থতা, চোখের সমস্যা এবং ঘাড় ব্যথা সহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার কারণ হতে পারে।
১২। মোবাইল আসক্তি নেটওয়ার্ক সিকিউরিটি নিশ্চিতকরণ না করলে আপনার ব্যক্তিগত ও আর্থিক তথ্য সংগ্রহ হতে পারে।
১৩। মোবাইল আসক্তি সাইবার অপরাধের জন্য আপনাকে সম্ভবতঃ আশঙ্কিত করতে পারে। মোবাইল ব্যবহার করতে হাই রিস্ক সাইবার ক্রিমিনালদের লক্ষ্য হতে পারে।
১৪। মোবাইল আসক্তি বন্ধ করতে আপনি মোবাইল ব্যবহার সম্পর্কে সচেতন হতে হবে এবং পরিবর্তন করার জন্য নিজেকে প্রস্তুত রাখতে হবে।
১৫। মোবাইল ব্যবহার করার আগে আপনাকে বিভিন্ন কার্যক্রমের জন্য সময় নির্ধারণ করে রাখতে হবে যাতে আপনি মোবাইলে অসহযোগিতার মাঝে পড়তে না হয়।
১৬। মোবাইল ব্যবহার করার সময় সম্ভবতঃ আপনি সামনের মানুষের সাথে সাক্ষাৎ হতে পারেন না এবং সেটি মনে হতে পারে যে আপনি একাকী বসে মোবাইল ব্যবহার করছেন।
১৭। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে আপনি নিজের মোবাইল আসক্তি কমাতে পারেন এবং আপনার সাম্প্রতিক সমস্যার সমাধান করতে পারেন।
তাছাড়াও, আপনি আপনার মোবাইলের সমস্ত অ্যাপ্লিকেশন এবং সংযোগগুলি পর্যালোচনা করে দেখতে পারেন যে সেগুলি কোনও বিষয়ে আপনার সময় নষ্ট করছে কিংবা আপনার জীবনের কোনও বিষয়টি আপনাকে একটি আশপাশের মানুষের সাথে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিচ্ছে।

