মোবাইল রেডিয়েশনের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে জানুন এবং সতর্ক হোনমোবাইল রেডিয়েশন কতটা ক্ষতিকর?
মোবাইল রেডিয়েশন কতটা ক্ষতিকর?
মোবাইল ফোন, যা ছাড়া বর্তমান জীবনযাত্রা কল্পনা করা প্রায় অসম্ভব। মোবাইলের প্রয়োজন ও উপকার সবাই জানে, কিন্তু প্রতিটি বস্তুরই ভালো মন্দ দুটি দিক থাকে। যদিও মোবাইল ফোন ক্ষতিকর কিংবা ঝুকিপূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও ব্যবহার বন্ধ করা যাবেনা তবুও মোবাইল ফোনের ক্ষতিকর দিক গুলো সম্পর্কে জানা প্রয়োজন। মোবাইল ফোনের অনেক গুলো ক্ষতিকর দিক রয়েছে তার মধ্যে একটি হলো রেডিয়েশন। আজ এই রেডিয়েশন সম্পর্কেই আলোচনা করবো।
রেডিয়েশন কি?
সহজ ভাষায় বলতে গেলে রেডিয়েশন হলো আকাশে বিদ্যুৎ চমকানোর মত একটা তড়িৎ শক্তি। এটি এমন একটি শক্তি যা তরঙ্গ দ্বারা সমর্থিত। এই তড়িৎ শক্তির মাধ্যমেই আমরা ফোনে কথা বলার সময় এক ফোন থেকে অন্য ফোনে কথা আদান প্রদান হয়ে থাকে।
মোবাইল রেডিয়েশনের ক্ষতিকর দিক
এক গবেষণায় দেখা গেছে, ১৯৭৫ সালের আগে হার্ট অ্যাটাক ও ব্রেইন ক্যান্বারের রোগীর সংখ্যা কম ছিল। কিন্তু মোবাইল ফোনের আবিষ্কারের পর থেকে এই রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে।
- জানা গেছে, মোবাইল ফোন চালু থাকা অবস্থায় তা বুক পকেটে রাখলে তা হার্টের উপর প্রভাব ফেলে এবং হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বেড়ে যায়।
- আবার ফোন চালু থাকা অবস্থায় কোমরের বেল্টে কিডনির নিকটবর্তী স্থানে রাখলে তার প্রভাব কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়ায়।
- অধিক সময় ধরে কানের কাছে মোবাইল রেখে কথা বললে তা আমাদের স্নায়ুতন্তে সমস্যা সৃষ্টি করে ফলে কখনো কখনো কান স্তব্ধ হয়ে যায়, ঝিনঝিন করে বা কানে প্রচন্ড ব্যাথা হয়। এভাবে একটা সময় তা জটিল আকার ধারণ করতে পারে।
- বাচ্চাদের কে আমরা খেলাচ্ছলে হাতে মোবাইল দিয়ে থাকি অথবা মোবাইলে গান শোনায়,কথা বলায় এটা তাদের জন্য খুবই ক্ষতিকর। এর ফলে তারা ছোট বেলা থেকেই মোবাইলে আসক্ত হয়ে পড়বে এবং মোবাইলের রেডিয়েশন তাদের ক্ষতি করতে থাকবে।
- অধিক সময় ধরে মোবাইলে গান শুনলে কিংবা কথা বললে আমাদের ব্রেইনের উপরও তার প্রভাব পড়বে। ব্রেইনের নিউটন ক্ষতিগ্রস্থ হবে এবং ব্রেইন কোষ দূর্বল হয়ে যাবে।
- মোবাইলের রেডিয়েশনের কারণে আমাদের ঘুমের সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে। গভীর ঘুম না হওয়া মোবাইল রেডিয়েশন সমস্যা গুলোর একটি। অভিজ্ঞতা থেকে জানা গেছে, মোবাইল সাথে নিয়ে ঘুমালে যে ঘুম হয়, তার থেকেও গভীর এবং ভালো ঘুম হয় মোবাইল পাশে না থাকলে।
- রেডিয়েশনের ক্ষতিকর প্রভাবের কারণে আপনার চুলের উপর ও প্রভাব পড়তে পারে যার ফলে আপনার চুল উঠতে শুরু করবে।
মোবাইলের ক্ষতিকর রেডিয়েশন থেকে বাঁচার উপায়
[একটু সাবধানতা অবলম্বন করলে মোবাইল রেডিয়েশন ক্ষতিকর প্রভাব কিছুটা কম করা সম্ভব]
১,দীর্ঘক্ষণ মোবাইলে কথা বলা থেকে বিরত থাকুন আর যদি বলতেই হয় তাহলে কিছুটা বিরতি দিয়ে কথা বলুন।
২,মোবাইল রাখার জন্য ব্যাগ অথবা মোবাইল কভার ব্যবহার করুন, পকেট বা কোমরের বেল্টে মোবাইল রাখা থেকে বিরত থাকুন।
৩,ঘুম যাওয়ার আগে মোবাইল সেটটি বন্ধ রাখবেন অথবা অন করা থাকলে ৩-৪ ফিট দূরত্বে রাখুন।
৪,শিশুদের হাতে মোবাইল দেওয়া থেকে বিরত থাকুন। তাদের খেলার জন্য খেলনা কিনে দিন কিন্তু কোন ভাবেই মোবাইল হাতে দিবেন না।

